১১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের হামলা, নিহত ৫৮

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ শাবওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২ শতাধিক এবং নিখোঁজ হয়েছেন ১৪ জন। শাবওয়ার গভর্নর আওয়াদ আল ওয়াজির নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ঘটনাস্থলের মাটিতে আহত মানুষ এবং রক্তমাখা মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।

গত সেপ্টেম্বরে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালী’র কাছাকাছি এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার পর থেকেই তাদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার শাওয়াবের সেই শিবিরে সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।

দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় ইয়েমেনের জ্বালানি-সমৃদ্ধ প্রদেশ শাবওয়া, যা এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত, সেখানে ইয়েমেনের বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ—‘বালহাফ’ অবস্থিত। বালহাফের কারখানায়  তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন করা হয়।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী জানিয়েছেন, তারা এই প্রশিক্ষণ শিবিরটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। তার দাবি, শিবিরটি সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সৌদি আরবের সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

চলতি মাসে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের সেনাবাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং বাব আল মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

অন্যদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার তাইজ শহরটিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা হুথি-বিরোধী শক্তির সর্বশেষ বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

ইয়েমেনের এই সংঘাত এখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর লড়াইয়ের একটি নতুন ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। হুথিরা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করেছে; তারা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়, যখন হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং সরকারকে দক্ষিণের দিকে সরে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি এক রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থার দিকে মোড় নেয়। অবশেষে ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলো একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা চলতি বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের সম্মুখীন। বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, সেখানে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। সূত্র : রয়টার্স

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:৩২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
১

সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের হামলা, নিহত ৫৮

আপডেট: ১০:৩২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ শাবওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২ শতাধিক এবং নিখোঁজ হয়েছেন ১৪ জন। শাবওয়ার গভর্নর আওয়াদ আল ওয়াজির নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ঘটনাস্থলের মাটিতে আহত মানুষ এবং রক্তমাখা মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।

গত সেপ্টেম্বরে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালী’র কাছাকাছি এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার পর থেকেই তাদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার শাওয়াবের সেই শিবিরে সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।

দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় ইয়েমেনের জ্বালানি-সমৃদ্ধ প্রদেশ শাবওয়া, যা এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত, সেখানে ইয়েমেনের বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ—‘বালহাফ’ অবস্থিত। বালহাফের কারখানায়  তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন করা হয়।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী জানিয়েছেন, তারা এই প্রশিক্ষণ শিবিরটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। তার দাবি, শিবিরটি সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সৌদি আরবের সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

চলতি মাসে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের সেনাবাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং বাব আল মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

অন্যদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার তাইজ শহরটিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা হুথি-বিরোধী শক্তির সর্বশেষ বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

ইয়েমেনের এই সংঘাত এখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর লড়াইয়ের একটি নতুন ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। হুথিরা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করেছে; তারা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়, যখন হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং সরকারকে দক্ষিণের দিকে সরে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি এক রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থার দিকে মোড় নেয়। অবশেষে ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলো একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা চলতি বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের সম্মুখীন। বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, সেখানে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। সূত্র : রয়টার্স