০৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

মেজর নিদালকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যায় অভিযুক্ত মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যেই মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড গুলি করে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করার এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বোঝাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কার্যক্রমটি জনসমক্ষে দেখানো হবে।

অবশ্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক মেজর নিদাল মালিক হাসান দাবি করেছেন, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। বর্তমানে হাসানকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলছেন, তিনি নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে কার্যকরের পরিকল্পনা করছেন।

হেগসেথ বলেন, ফোর্ট হুডে আগামী ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করার মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হামলাটি যে দিন, সময়ে ও স্থানে ঘটেছিল, তার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন, আনুমানিক সময় ও স্থান মিলে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘খুবই সহজ সিদ্ধান্ত’। হেগসেথ আরও বলেন, ‘মানুষ যেন এটি দেখতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমটি জনসমক্ষে হয় তা আমরা নিশ্চিত করব। কারণ মানুষকে বুঝতে হবে, এ ধরনের কাজের জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’

এর আগে গত সোমবার পেন্টাগন জানায়, মেজর নিদাল মালিক হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে হেগসেথের সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কখন ও কোথায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর সচিবকে।

প্রসঙ্গত, নিদাল মালিক হাসান ছিলেন মেজর পদমর্যাদায় মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ চিকিৎসক। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান। এতে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।

পরে তিনি দাবি করেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন।

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও হবে এটি।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:১৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
১১

মেজর নিদালকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার

আপডেট: ০৯:১৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যায় অভিযুক্ত মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যেই মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড গুলি করে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করার এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বোঝাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কার্যক্রমটি জনসমক্ষে দেখানো হবে।

অবশ্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক মেজর নিদাল মালিক হাসান দাবি করেছেন, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। বর্তমানে হাসানকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলছেন, তিনি নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে কার্যকরের পরিকল্পনা করছেন।

হেগসেথ বলেন, ফোর্ট হুডে আগামী ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করার মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হামলাটি যে দিন, সময়ে ও স্থানে ঘটেছিল, তার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন, আনুমানিক সময় ও স্থান মিলে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘খুবই সহজ সিদ্ধান্ত’। হেগসেথ আরও বলেন, ‘মানুষ যেন এটি দেখতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমটি জনসমক্ষে হয় তা আমরা নিশ্চিত করব। কারণ মানুষকে বুঝতে হবে, এ ধরনের কাজের জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’

এর আগে গত সোমবার পেন্টাগন জানায়, মেজর নিদাল মালিক হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে হেগসেথের সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কখন ও কোথায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর সচিবকে।

প্রসঙ্গত, নিদাল মালিক হাসান ছিলেন মেজর পদমর্যাদায় মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ চিকিৎসক। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান। এতে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।

পরে তিনি দাবি করেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন।

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও হবে এটি।