০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল, যে পরিণতি হলো তরুণের

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল। কল রিসিভ করতেই ফোনের পর্দায় ভেসে ওঠে এক নগ্ন নারীর ছবি। এরপর ওই তরুণের ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে দাবি করে শুরু হয় ভয় দেখানো। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় টাকা আদায় করে একটি প্রতারক চক্র। শেষ পর্যন্ত ওই তরুণের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ রুপি।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের আহমেদাবাদে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রতারণার শিকার হওয়ার পর তিনি সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ওই তরুণের হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসে। কলটি ধরার পর হঠাৎ পর্দায় এক নগ্ন নারীকে দেখতে পান তিনি। বিষয়টি দেখে ভয় পেয়ে দ্রুত কল কেটে দেন এবং নম্বরটি ব্লক করে দেন।

কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনকারী দাবি করেন, ওই তরুণের একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তাকে একটি ভিডিওও পাঠানো হয়। পরে ভয়ে সেটি মুছে ফেলেন ওই তরুণ।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর অন্য একটি নম্বর থেকে আবার ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে ‘সঞ্জয় অরোরা’ নামে পরিচয় দিয়ে দিল্লি সাইবার ক্রাইম শাখার কর্মকর্তা দাবি করেন। তিনি বলেন, ওই তরুণের নামে একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এমনকি আহমেদাবাদ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশের অভিযোগ, এরপর প্রতারকেরা তাকে কথিত এক ‘ইউটিউব কর্মকর্তার’ সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তরুণের নামে দুটি ‘নগ্ন ভিডিও’ পাওয়া গেছে। সেগুলো সরিয়ে ফেলতে ‘আইনি প্রক্রিয়ার’ জন্য ৭১ হাজার ২৫০ রুপি দিতে হবে।

গ্রেপ্তার ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে ওই তরুণ টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও থামেনি প্রতারণা। একের পর এক অজুহাতে তার কাছে আরও অর্থ দাবি করতে থাকে চক্রটি। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার পাশাপাশি তার পেশাগত জীবন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে দফায় দফায় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠান ওই তরুণ। বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরও প্রতারকেরা আরও অর্থ দাবি করতে থাকলে একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পরে তিনি সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, টাকা পাঠানো ব্যাংক হিসাবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রতারণার সঙ্গে কতজন জড়িত এবং অর্থের গতিপথ কোথায় তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৩:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
১০

অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল, যে পরিণতি হলো তরুণের

আপডেট: ০৩:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল। কল রিসিভ করতেই ফোনের পর্দায় ভেসে ওঠে এক নগ্ন নারীর ছবি। এরপর ওই তরুণের ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে দাবি করে শুরু হয় ভয় দেখানো। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় টাকা আদায় করে একটি প্রতারক চক্র। শেষ পর্যন্ত ওই তরুণের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ রুপি।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের আহমেদাবাদে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রতারণার শিকার হওয়ার পর তিনি সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ওই তরুণের হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসে। কলটি ধরার পর হঠাৎ পর্দায় এক নগ্ন নারীকে দেখতে পান তিনি। বিষয়টি দেখে ভয় পেয়ে দ্রুত কল কেটে দেন এবং নম্বরটি ব্লক করে দেন।

কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনকারী দাবি করেন, ওই তরুণের একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তাকে একটি ভিডিওও পাঠানো হয়। পরে ভয়ে সেটি মুছে ফেলেন ওই তরুণ।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর অন্য একটি নম্বর থেকে আবার ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে ‘সঞ্জয় অরোরা’ নামে পরিচয় দিয়ে দিল্লি সাইবার ক্রাইম শাখার কর্মকর্তা দাবি করেন। তিনি বলেন, ওই তরুণের নামে একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এমনকি আহমেদাবাদ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশের অভিযোগ, এরপর প্রতারকেরা তাকে কথিত এক ‘ইউটিউব কর্মকর্তার’ সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তরুণের নামে দুটি ‘নগ্ন ভিডিও’ পাওয়া গেছে। সেগুলো সরিয়ে ফেলতে ‘আইনি প্রক্রিয়ার’ জন্য ৭১ হাজার ২৫০ রুপি দিতে হবে।

গ্রেপ্তার ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে ওই তরুণ টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও থামেনি প্রতারণা। একের পর এক অজুহাতে তার কাছে আরও অর্থ দাবি করতে থাকে চক্রটি। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার পাশাপাশি তার পেশাগত জীবন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে দফায় দফায় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠান ওই তরুণ। বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরও প্রতারকেরা আরও অর্থ দাবি করতে থাকলে একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পরে তিনি সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, টাকা পাঠানো ব্যাংক হিসাবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রতারণার সঙ্গে কতজন জড়িত এবং অর্থের গতিপথ কোথায় তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে