০৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনা, রাশিয়ার পরমাণু হামলার হুমকি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। বাল্টিক সাগরের উপকূলে অবস্থিত রুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন বা অবরোধের চেষ্টা করা হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে মস্কো। জবাবে রাশিয়াকে পারমাণবিক হুমকি বন্ধ না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ নিজেদের পুরো অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে ন্যাটোকে সতর্ক করেছে মস্কো। সামরিক এই জোটটির সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো একটি কূটনৈতিক নথিতে রাশিয়া এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাঠানো ওই কূটনৈতিক নথিতে দাবি করা হয়েছে, ‘কালিনিনগ্রাদে আকাশ ও নৌ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো’—এমন তথ্য রাশিয়ার হাতে রয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারির জবাব দিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি বলেছেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার উচিত ‘পারমাণবিক হুমকি দেয়া বন্ধ করা’। রুটে রাশিয়ার নথিটিকে কোনো কাজে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন।

তবে রাশিয়ার হুমকির গুরুত্বও কিছুটা খাটো করে দেখেছেন রুটে। তিনি বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গেলে ‘পুতিন যে কখনোই জিততে পারবেন না, এটা তিনি জানেন।’

রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলটি বাল্টিক সাগরের তীরে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া—দুই ন্যাটো সদস্য দেশের মাঝখানে অবস্থিত। অঞ্চলটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে দেশটির বাল্টিক নৌবহর এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এমন সময়ে এলো, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে এবং উত্তেজনা ক্রমেই আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজেদের আকাশসীমায় কথিত অনুপ্রবেশের ঘটনার পর পোল্যান্ড তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। অন্যদিকে ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে বাল্টিক সাগরের ওপর ডেনমার্কের একটি সামরিক হেলিকপ্টারের কাছে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ থেকে দুটি ফ্লেয়ার ছোড়া হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১২

ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনা, রাশিয়ার পরমাণু হামলার হুমকি

আপডেট: ০৯:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। বাল্টিক সাগরের উপকূলে অবস্থিত রুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন বা অবরোধের চেষ্টা করা হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে মস্কো। জবাবে রাশিয়াকে পারমাণবিক হুমকি বন্ধ না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ নিজেদের পুরো অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে ন্যাটোকে সতর্ক করেছে মস্কো। সামরিক এই জোটটির সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো একটি কূটনৈতিক নথিতে রাশিয়া এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাঠানো ওই কূটনৈতিক নথিতে দাবি করা হয়েছে, ‘কালিনিনগ্রাদে আকাশ ও নৌ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো’—এমন তথ্য রাশিয়ার হাতে রয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারির জবাব দিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি বলেছেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার উচিত ‘পারমাণবিক হুমকি দেয়া বন্ধ করা’। রুটে রাশিয়ার নথিটিকে কোনো কাজে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন।

তবে রাশিয়ার হুমকির গুরুত্বও কিছুটা খাটো করে দেখেছেন রুটে। তিনি বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গেলে ‘পুতিন যে কখনোই জিততে পারবেন না, এটা তিনি জানেন।’

রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলটি বাল্টিক সাগরের তীরে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া—দুই ন্যাটো সদস্য দেশের মাঝখানে অবস্থিত। অঞ্চলটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে দেশটির বাল্টিক নৌবহর এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এমন সময়ে এলো, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে এবং উত্তেজনা ক্রমেই আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজেদের আকাশসীমায় কথিত অনুপ্রবেশের ঘটনার পর পোল্যান্ড তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। অন্যদিকে ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে বাল্টিক সাগরের ওপর ডেনমার্কের একটি সামরিক হেলিকপ্টারের কাছে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ থেকে দুটি ফ্লেয়ার ছোড়া হয়েছিল।