০২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকে:

তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকীসহ প্রতিষ্ঠানের চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাব। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৫টায় আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডস্থ চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বর্ষীয়ান সাংবাদিক সৈয়দ আবু মুসার সভাপতিত্বে এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক এনামুল হক রাশেদীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ তাফসির, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর উপ-সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন এবং স্টাফ রিপোর্টার মো. এনামুল হক রাশেদী।

বক্তারা বলেন, প্রকাশিত সংবাদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের তথ্যগত জবাব না দিয়ে একজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করানোর অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তারা আরও বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে এটি শুধু কয়েকজন সাংবাদিককে হয়রানির অপচেষ্টা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো জনস্বার্থে সত্য উদঘাটন করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জবাব মামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির মাধ্যমে দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবিধানস্বীকৃত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এ সময় দেশের সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল নাগরিকের প্রতি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম রক্ষার আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, “আমরা চাই স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম। সত্য প্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করা যাবে না। হয়রানিমূলক মামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।”
মানববন্ধনে চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, স্যাটেলাইট ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০২:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

আপডেট: ০২:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকে:

তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকীসহ প্রতিষ্ঠানের চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাব। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৫টায় আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডস্থ চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বর্ষীয়ান সাংবাদিক সৈয়দ আবু মুসার সভাপতিত্বে এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক এনামুল হক রাশেদীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ তাফসির, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর উপ-সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন এবং স্টাফ রিপোর্টার মো. এনামুল হক রাশেদী।

বক্তারা বলেন, প্রকাশিত সংবাদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের তথ্যগত জবাব না দিয়ে একজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করানোর অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তারা আরও বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে এটি শুধু কয়েকজন সাংবাদিককে হয়রানির অপচেষ্টা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো জনস্বার্থে সত্য উদঘাটন করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জবাব মামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির মাধ্যমে দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবিধানস্বীকৃত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এ সময় দেশের সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল নাগরিকের প্রতি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম রক্ষার আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, “আমরা চাই স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম। সত্য প্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করা যাবে না। হয়রানিমূলক মামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।”
মানববন্ধনে চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, স্যাটেলাইট ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।