প্রবাসে বাংলা

এক ভ্রমণ তারকা ১২৫টি দেশ ঘুরেছে

মাইন উদ্দিন আহমেদ, নিউ ইয়র্ক থেকেঃ

এক ভ্রমণ তারকা ১২৫টি দেশ ঘুরেছে

অসাধারণ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান সেই মেয়েটি এখন নিউ ইয়র্কে। অতি সম্প্রতি এসেছে সে আমেরিকার এই স্টেইটে সাউথ আফ্রিকান দেশ জিম্বাবুয়ে ভ্রমণ শেষ করে। বিশ্ব ভ্রমণ অভিযানে জিম্বাবুয়ে ছিলো তার ১২৫ নম্বর দেশ অর্থাৎ এই সংখ্যক দেশ ভ্রমণ তার এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো এই মেয়েটি বাংলাদেশের নাগরিক।

ভ্রমণ তারকা (ট্র্যাভেল হিরো) এই মেয়েটির নাম কাজী আসমা আজমেরী এবং সে বাংলাদেশের খুলনা জেলার মেয়ে। তার সবচেয়ে গর্বিত উচ্চারণ হলো, “আমি বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী”। তার বিশ্ব ভ্রমণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এটা নীরিক্ষণ করা যে, বিশ্বের কোথায় মেয়েদের দৃষ্টিভঙ্গী কেমন এটা দেখা এবং মেয়েদের প্রতি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গী কেমন এটাও অবলোকন করা।

আসমা আজমেরী বিশ্ব ভ্রমণ শুরু করে ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তার এই অভিযাত্রা শুরু হয়েছিলো পিতার দেয়া সোনার গয়নাগুলো বিক্রি করে। এরই মধ্যে সে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কেটিংয়ে ডিগ্রী নিয়েছে এবং ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছে। তার কথার মধ্যে বলিষ্ঠ একটি সুর ছিলো এই মর্মে যে, আমি দেখাতে চেয়েছি বাংলাদেশী পাসপোর্টে বিশ্বের যে কোন দেশে যাওয়া যায়।

এটা দেখাতে গিয়ে তার অনেক যায়গায় অনুচিত এবং অনাহুত দুর্ব্যবহার মোকাবেলা করতে হয়েছে। সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও তাকে দুর্ব্যবহার মোকাবেলা করতে হয়েছে সাইপ্রাসে, ইমিগ্রেশানের ইংরেজী না জানা কর্মকর্তারা খুবই বাজে ব্যবহার করেছিলো তার সাথে। ভিয়েতনামেতো তাকে হাজতেই ঢুকিয়ে ফেলেছিলো। সর্বক্ষেত্রেই উদ্ভুত পরিস্থিতি সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেছে আসমা আজমেরী। তার ভ্রমণ তালিকার দ্বিতীয় দেশ ছিলো নেপাল, গমন হয়েছিলো ২০০৯ সালে আর ১২৫তম দেশ ছিলো জিম্বাবুয়ে যেটি সফর করে কয়েকদিন আগে সে এসেছে নিউ ইয়র্কে। তার পরিকল্পনা হলো আরো ৭৫টি দেশ ভ্রমণ করা।

আমরা কিছু ব্যক্তিগত কথাও বলেছি তার সাথে। জানা গেলো যে, সে ২০১২ সালে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নিউজিল্যান্ডে কর্মসংস্থান করেছে এবং এখন ওখান থেকেই বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে যাওয়া হবে এবং এর পরপরই শুরু হবে একত্রে কয়েকটি দেশ ভ্রমণের জন্য এ পর্বের অভিযান।
জীবনের ব্যাপারে সে সীমাহীন আত্মবিশ্বাস লালন করে।

বিশ্বভ্রমণ করতে গিয়ে মোকাবেলা করা সমস্যাগুলোর জন্য তার কোন দুঃখ নেই। ভালো ছেলে পেলে বিয়ে করতে রাজি আছে। বাংলাদেশী পাসপোর্ট হাতে পুরা পৃথিবী ভ্রমণ করে বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশ চেনানোর প্রতিজ্ঞায় সে অনড়। আত্মবিশ্বাসের মাত্রা তার সত্যিই বিস্ময়কর! ট্রাভেল স্টার কাজী আসমা আজমেরীর চলার পথ সুগম হোক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button