১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য সরকারের নেই

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের কোনো লক্ষ্য সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনটি যেন নিপীড়নমূলক না হয় এবং কোনো সাংবাদিক যেন এর অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য একটি খসড়া বিল তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হওয়ার পর সব অংশীজনের মতামত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে মতামত পাওয়া গেছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

তিনি বলেন, আরও কিছু সময় নিয়ে গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। গণমাধ্যম যেন এ আইনে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিক্টিমাইজড না হয়, সে সুরক্ষা রাখার প্রস্তাব এসেছে এবং সরকার সেটি গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব বৈঠকে এসেছে। এটি সুপারিশ আকারে এলে খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও এসেছে।

তিনি জানান, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশগুলো পাওয়া যাবে। এরপর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে সেগুলো পর্যালোচনা করে খসড়া আবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তী ধাপগুলো শেষ করে বিলটি সংসদে তোলা হবে এবং সেখানে সরকারি ও বিরোধী দল আলোচনা করবে। সংসদের বাইরেও সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজের সব স্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দেশের সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক মানের সমন্বয়ে আইনটি প্রণয়ন করতে চায় সরকার।

এদিকে বৈঠক শেষে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বর্তমান খসড়া অপরিবর্তিত অবস্থায় গৃহীত হলে তা গণমাধ্যমের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের বিধান সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত এবং আইনের বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সবাই মিলে এমন প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হবে, যা সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে দেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৩:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩

সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য সরকারের নেই

আপডেট: ০৩:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের কোনো লক্ষ্য সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনটি যেন নিপীড়নমূলক না হয় এবং কোনো সাংবাদিক যেন এর অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য একটি খসড়া বিল তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হওয়ার পর সব অংশীজনের মতামত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে মতামত পাওয়া গেছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

তিনি বলেন, আরও কিছু সময় নিয়ে গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। গণমাধ্যম যেন এ আইনে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিক্টিমাইজড না হয়, সে সুরক্ষা রাখার প্রস্তাব এসেছে এবং সরকার সেটি গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব বৈঠকে এসেছে। এটি সুপারিশ আকারে এলে খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও এসেছে।

তিনি জানান, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশগুলো পাওয়া যাবে। এরপর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে সেগুলো পর্যালোচনা করে খসড়া আবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তী ধাপগুলো শেষ করে বিলটি সংসদে তোলা হবে এবং সেখানে সরকারি ও বিরোধী দল আলোচনা করবে। সংসদের বাইরেও সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজের সব স্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দেশের সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক মানের সমন্বয়ে আইনটি প্রণয়ন করতে চায় সরকার।

এদিকে বৈঠক শেষে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বর্তমান খসড়া অপরিবর্তিত অবস্থায় গৃহীত হলে তা গণমাধ্যমের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের বিধান সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত এবং আইনের বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সবাই মিলে এমন প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হবে, যা সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে দেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।