০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

সেনবাগের রিয়াদ গুলশানে ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজিতে গ্রেপ্তার

মো: ফখর উদ্দিন, নোয়াখালী প্রতিনিধি
মো: ফখর উদ্দিন, নোয়াখালী প্রতিনিধি

সেনবাগের রিয়াদ গুলশানে ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজিতে গ্রেপ্তার

ঢাকার গুলশানে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চক্রটির নেতৃত্বে থাকা রিয়াদ নামের এক যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে। তিনি নিজেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতা পরিচয় দিয়ে নানা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

জানা গেছে, ধৃত রিয়াদের পুরো নাম আব্দুর রাজ্জাক সোলায়মান ওরফে রিয়াদ। তার বাড়ি নবীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীপুর বাজারসংলগ্ন বেপারী বাড়ি। এক সময় দিনমজুরি ও রিকশাচালনার মতো পেশায় জড়িত ছিলেন রিয়াদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার জীবন নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। বদলে যায় তার পোশাক, জীবনযাত্রা ও অবস্থান। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কোনো দৃশ্যমান আয় বা পেশা ছাড়াই তিনি অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

গতকাল (২৬ জুলাই) বিকেলে গুলশান থানার পুলিশ রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়াদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গুলশানের এক সাবেক মহিলা সংসদ সদস্যের বাসায় গিয়ে নিজেদের ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে।

বাড়ির কর্তৃপক্ষ তাদের আচরণে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে গুলশান থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া রশিদ বই, পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও চাঁদা আদায়ের একটি তালিকা জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে কোনো স্বীকৃত সংগঠন নেই। এটি একটি ছদ্মবেশী প্রতারকচক্র। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, আন্দোলনের হুমকি ও অবরোধের নামে চাঁদা আদায় করত।

রিয়াদ এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। তার পরিকল্পনায় বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের নামে দপ্তর খোলার কথা বলে মানুষদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।

স্থানীয়রা বলেন, “আমরাই তো আগে থেকেই বলছিলাম, ছেলেটার উত্থান স্বাভাবিক নয়। এত অল্প সময়ে এত সম্পদ, এত প্রভাব—তা সন্দেহজনক ছিল। আজ সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।”

গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া, এই চক্রের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১২:২৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
১৫৪

সেনবাগের রিয়াদ গুলশানে ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজিতে গ্রেপ্তার

আপডেট: ১২:২৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

সেনবাগের রিয়াদ গুলশানে ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজিতে গ্রেপ্তার

ঢাকার গুলশানে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চক্রটির নেতৃত্বে থাকা রিয়াদ নামের এক যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে। তিনি নিজেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতা পরিচয় দিয়ে নানা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

জানা গেছে, ধৃত রিয়াদের পুরো নাম আব্দুর রাজ্জাক সোলায়মান ওরফে রিয়াদ। তার বাড়ি নবীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীপুর বাজারসংলগ্ন বেপারী বাড়ি। এক সময় দিনমজুরি ও রিকশাচালনার মতো পেশায় জড়িত ছিলেন রিয়াদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার জীবন নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। বদলে যায় তার পোশাক, জীবনযাত্রা ও অবস্থান। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কোনো দৃশ্যমান আয় বা পেশা ছাড়াই তিনি অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

গতকাল (২৬ জুলাই) বিকেলে গুলশান থানার পুলিশ রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়াদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গুলশানের এক সাবেক মহিলা সংসদ সদস্যের বাসায় গিয়ে নিজেদের ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে।

বাড়ির কর্তৃপক্ষ তাদের আচরণে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে গুলশান থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া রশিদ বই, পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও চাঁদা আদায়ের একটি তালিকা জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে কোনো স্বীকৃত সংগঠন নেই। এটি একটি ছদ্মবেশী প্রতারকচক্র। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, আন্দোলনের হুমকি ও অবরোধের নামে চাঁদা আদায় করত।

রিয়াদ এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। তার পরিকল্পনায় বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের নামে দপ্তর খোলার কথা বলে মানুষদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।

স্থানীয়রা বলেন, “আমরাই তো আগে থেকেই বলছিলাম, ছেলেটার উত্থান স্বাভাবিক নয়। এত অল্প সময়ে এত সম্পদ, এত প্রভাব—তা সন্দেহজনক ছিল। আজ সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।”

গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া, এই চক্রের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।