প্রবাসে বাংলা

দিলারা হাশেম স্মরণসভায় প্রাণঢালা শ্রদ্ধা ও প্রশংসা

সেলিম আহমেদ, নিউ ইয়র্ক থেকেঃ

দিলারা হাশেম স্মরণসভায় প্রাণঢালা শ্রদ্ধা ও প্রশংসা

বাংলা সংবাদ পাঠ জগতের যশস্বী মানুষ দিলারা হাশেম (১৯৩৬-২০২২) স্মরণ সভা সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটে অনুষ্ঠিত হয়। এ মাসের ১৯ তারিখে তিনি পরলোক গমন করেন।

একজন কথা সাহিত্যিক, সংগীত শিল্পী, নিউজকাস্টার ও অংকন শিল্পী হিসেবে তিনি অসাধারণ সুনাম অর্জন করেছিলেন সেই ষাট-এর দশক থেকে। সত্যজিৎ রায়ের মতো কিংবদন্তী তাঁর সিনেমায় অভিনয় করার অনুরোধ করেছিলেন তাঁকে। এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনাবসানে দেশে এবং প্রবাসে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমী পুরষ্কার লাভ করেন। বিজ্ঞজনেরা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, তাঁকে সর্বোচ্চ জাতীয় পুরষ্কারেও ভূষিত করা উচিত ছিলো। ওনার মৃত্যূর পর ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দুতাবাস থেকে কেউ শোক জানাতে যাননি বলেও অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।

নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন মিলনায়তনে ২৫ মার্চ শুক্রবার আয়োজিত হয় ‘স্মৃতিতে অমর দিলারা হাশেম’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান। আয়োজন করে সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জার্নালিস্টস ফোরাম। শুরুতে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন দু’জন কিংবদন্তী বেতার ও টিভি ব্যক্তিত্ব ইকবাল বাহার চৌধুরী ও রোকেয়া হায়দার। কথা থাকলেও শারীরিক কারনে শেষ মুহুর্তে বক্তব্য রাখতে পারেননি আরেক দু’জন কিংবদন্তী মাসুমা খাতুন ও সরকার কবীরুদ্দিন।

নিউ ইয়র্কের অনেক বিশিষ্টজন, সাংবাদিক, লেখক ও মূলধারার রাজনীতিবিদ দিলারা হাশেমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই অনুষ্ঠানে আসেন। শিল্পী রুপা চৌধুরী ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি গেয়ে ওনার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বীর শহীদদের সম্মাণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। চার দশকের তাঁর অত্যন্ত স্নেহধন্য ও ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক-লেখক আকবর হায়দার কিরন ছিলেন এই বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ও উপস্থাপক।

দিলারা হাশেমের কথা বলতে গিয়ে বারবার অশ্রুভারাক্রান্ত হয়েছেন তিনি। গেলো আগস্টে তাঁর জন্মদিনে টেলিফোনে শেষ কথা হয় ও সাক্ষাৎকার নেন জনাব কিরন। এর আগে তিনি ভিওএ’র ৭৫ বর্ষপুর্তি অনুষ্ঠানে এবং চার বছর আগে ভার্জিনিয়ার ফোবানায়ও সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তাঁর।
দিলারা হাশেমের স্মৃতিতে এই বিশেষ আয়োজনে তাঁর জীবনের দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তাগণ।

প্রবাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বিশিস্ট সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ তাঁর সাথে কতো স্মৃতিময় সান্নিধ্যের উল্লেখ করে বলেন, জীবদ্দশায় তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার পেলে আমরা খুব খুশী হতাম। নিউ ইয়র্কের বই মেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসবে তাঁর বহুবার যোগদান এবং সম্মাননা পাওয়া অত্যন্ত স্মৃতিময় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে দিলারা হাশেম ও রোকেয়া হায়দার বইমেলায় একসাথে আসা সবার কাছে ছিলো যেন বিশেষ আকর্ষণ। দিলারা হাশেমের জীবন নিয়ে আলোকপাত করেন সাংবাদিক ও লেখক মিনহাজ আহমেদ।অনেকেই সরকারের প্রতি দাবি জানান দিলারা হাশেমের নামে যেন ঢাকায় একটি সড়ক নামকরন করা হয়।

সিনিয়ার সাংবাদিক মাইন উদ্দিন আহমেদ সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জার্ণালিস্টস ফোরাম প্রেসিডেন্ট আকবর হায়দার কিরন সাহেবকে দিলারা হাশেমের নামে একটি সংবাদ পাঠ চর্চা বিষয়ক সংগঠন গড়ে তোলার জন্য অনুরোধ জানান এবং এ পেশার জীবিত প্রবীণদেরকে এতে সম্পৃক্ত করতে বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের ভেতর বক্তব্য রাখেন মূলধারার ডেমোক্রেট নেতা মোর্শেদ আলম, লেখক সাইদ তারেক, সিনিয়র সাংবাদিক মাইন উদ্দিন আহমেদ, দেশ পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান, উদিচীর নেতা এম ই চৌধুরী শামীম, টিভি ব্যক্তিত্ব হাসানুজ্জামান সাকি, সংস্কৃতিজন গোপাল সান্যাল ও রিমন ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ডিআরইউ’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মনওয়ারুল ইসলাম, লেখক শেলী জামান খান, লেখক সাংবাদিক মনিজা রহমান, শিল্পী জাহেদ শরীফ, সম্পাদক এমডি হামিদ, টিভি উপস্থাপক আইরিন রহমান, সাংবাদিক তফাজ্জল লিটন, বিশিষ্ট ব্যাংকার রেশাদ খান, বাংলা টিভির মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button